‘দুর্নাম' ও ‘দুর্নিবার’ শব্দ দুটিতে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার হয়নি কেন?

Updated: 5 months ago
  • সমাসবদ্ধ পদ বলে
  • দেশি শব্দ বলে
  • তৎসম শব্দ বলে
  • বিদেশি শব্দ বলে
3.3k
ব্যাখ্যাঃ

বাংলা ভাষার ণ-ত্ব বিধান অনুযায়ী, সাধারণত 'র' বা 'ষ' এর পরে থাকা 'ন' পরিবর্তিত হয়ে 'ণ' হয়। তবে, এই নিয়ম কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এর মধ্যে অন্যতম একটি ব্যতিক্রম হলো সমাসবদ্ধ পদ (compound words)। 'দুর্নাম' এবং 'দুর্নিবার' উভয়ই উপসর্গযোগে গঠিত পদ যা সমাসের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচিত।

যেমন:

        
  • দুর্নাম: এখানে 'দুর্' (দুঃ) উপসর্গ এবং 'নাম' পদটি একসঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি পদ তৈরি করেছে। 'নাম' শব্দটিতে স্বাভাবিকভাবেই দন্ত্য-ন (ন) ব্যবহৃত হয়। সমাসবদ্ধ পদ হওয়ায় 'র' (দুর্-এর র) থাকা সত্ত্বেও 'নাম'-এর 'ন' পরিবর্তিত হয়ে 'ণ' হয়নি।
  •     
  • দুর্নিবার: এটিও 'দুর্' উপসর্গ এবং 'নিবার' পদ দিয়ে গঠিত। 'নিবার' শব্দটিতেও দন্ত্য-ন (ন) ব্যবহৃত হয়। এটিও সমাসবদ্ধ পদ হওয়ায় ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম প্রযোজ্য হয়নি।

অন্যান্য বিকল্পগুলো ভুল হওয়ার কারণ:

        
  • দেশি শব্দ বলে: 'দুর্নাম' ও 'দুর্নিবার' উভয়ই তৎসম (সংস্কৃত মূল) শব্দ। 'দুর্' একটি সংস্কৃত উপসর্গ। তাই এগুলো দেশি শব্দ নয়। দেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম খাটে না, তবে এই শব্দ দুটি সেই শ্রেণীর নয়।
  •     
  • তৎসম শব্দ বলে: ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম মূলত তৎসম শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এই শব্দ দুটি তৎসম হলেও, ণ-ত্ব বিধানের ব্যতিক্রমের কারণে এখানে 'ন' অপরিবর্তিত রয়েছে। শুধুমাত্র তৎসম শব্দ হওয়ায় ণ ব্যবহার হয়নি, এটি ভুল ব্যাখ্যা। বরং, তৎসম শব্দ হওয়া সত্ত্বেও কেন ণ ব্যবহার হয়নি, তার কারণ হলো এটি একটি বিশেষ ব্যতিক্রম।
  •     
  • বিদেশি শব্দ বলে: 'দুর্নাম' ও 'দুর্নিবার' উভয়ই তৎসম শব্দ, বিদেশি শব্দ নয়। বিদেশি শব্দে ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম খাটে না, কিন্তু এই শব্দ দুটি বিদেশি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত নয়।

অতএব, 'দুর্নাম' ও 'দুর্নিবার' শব্দ দুটিতে মূর্ধন্য-ণ ব্যবহার না হওয়ার মূল কারণ হলো, এগুলো সমাসবদ্ধ পদ (বা উপসর্গযোগে গঠিত পদ, যা সমাসের একটি প্রকারভেদ) এবং ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম সমাসবদ্ধ পদে প্রযোজ্য হয় না।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

১. ণত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ধ্বনির ব্যবহার নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য- ন-এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।
ণ ব্যবহারের নিয়ম
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়। যেমন – ঘণ্টা, লণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।
২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন – ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি। ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য য় ব হ ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য ‘ণ’ হয়। যেমন – কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, v.
অর্পণ (র্ + প্ + অ+ণ), লক্ষণ (ক্ + ষ্ + অ + ণ)। এরূপ – রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি ৷
-
৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়

চাণক্য মাণিক্য গণ
বাণিজ্য লবণ মণ
বেণু বীণা কঙ্কণ কণিকা ।
কল্যাণ শোণিত মণি
স্থাণু গুণ পুণ্য বেণী
ফণী অণু বিপণি গণিকা ।
আপণ লাবণ্য বাণী
নিপুণ ভণিতা পাণি
গৌণ কোণ ভাণ পণ শাণ ৷
চিক্কণ নিক্কণ তূণ
কফণি (কনুই) বণিক গুণ
গণনা পিণাক পণ্য বাণ ৷


সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন – ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক। ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো ণ হয় না, ন হয়। যেমন – অন্ত,গ্রন্থ, ক্রন্দন।

২. ষ-ত্ব বিধান
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে। যে-সব তৎসম শব্দে ‘ষ’ রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য ‘ষ’–এর ব্যবহারের নিয়মকে ষত্ব বিধান বলে।
ষ ব্যবহারের নিয়ম
১. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের স ষ হয়। যেমন— ভবিষ্যৎ (ত্ + অ + ব্ + ই + ) এখানে ব-এর পরে ই-এর ব্যবধান), মুমূর্ষু, চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
২. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে ‘ষ’ হয়। যেমন – অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান অনুষ্ঠান, বিসম > বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান >
৩.‘ঋ’ এবং ঋ কারের পর ‘ষ’ হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট, দৃষ্টি, সৃষ্টি ইত্যাদি।
৪. তৎসম শব্দে ‘র’-এর পর ‘ষ’ হয়। যেমন- বর্ষা, ঘর্ষণ, বৰ্ষণ
৫. র- ধ্বনির পরে যদি অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি থাকে তবে তার পরে 'ষ' হয়। যথা : পরিষ্কার। কিন্তু অ, আ স্বরধ্বনি থাকলে স হয়। যথা পুরস্কার।
৬. ট-বর্গীয় ধ্বনির সঙ্গে 'ষ' যুক্ত হয়। যথা : কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
কতগুলো শব্দে স্বভাবতই ‘ষ’ হয়। যেমন-ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ভাষা, ঊষা, পৌষ, কলুষ, পাষাণ, মানুষ, ঔষধ, ষড়যন্ত্র, ভূষণ, দ্বেষ ইত্যাদি ।
জ্ঞাতব্য
ক. আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। এ সম্বন্ধে সতর্ক হতে হবে। যেমন— জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
খ. সংস্কৃত ‘সাৎ’ প্রত্যয়যুক্ত পদেও ষ হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

Related Question

View All
  • কষ্ট
  • উপনিষা
  • কল্যাণীয়েষু
  • আষাঢ়
  • কোনটিই নয়
16
Updated: 2 weeks ago
  • শ্রাবণ
  • হরিণ
  • নিপুণ
  • ঘন্টা
23
  • রুপতত্ত্ব
  • বাক্যতত্ত্ব
  • ধ্বনিতত্ত্ব
  • অর্থতত্ত্ব
52
Updated: 2 months ago
  • অনুষঙ্গ
  • অনষাঙ্গ
  • অনুসঙ্গ
  • অনুসাঙ্গ
66
  • সংস্কৃত
  • বিদেশি
  • দেশি শব্দ
  • তদ্ভব শব্দ
128
  • বাংলা
  • তৎসম
  • তদ্ভব
  • বিদেশি
182
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই